দেশভাগ কেবল একটি political সীমানা নির্ধারণ ছিল না, তা ছিল কোটি কোটি মানুষের বুকের উপর দিয়ে টানা এক রক্তাক্ত কাঁটাতার। ১৯৪৭ সালের এই ট্র্যাজেডি ও উদ্বাস্তু জীবনের যাতনা বাংলা কথাসাহিত্যে এক বিশাল জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে।
বাঙালি লেখকদের কলমে দেশভাগের যন্ত্রণা বিভিন্ন মাত্রায় প্রকাশিত হয়েছে। তারা দেখিয়েছেন কীভাবে রাতারাতি নিজের মাতৃভূমি পর হয়ে যায়, কীভাবে চিরকালের প্রতিবেশী ভিন্ন ধর্মের তকমা পেয়ে শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। দাঙ্গা, লুণ্ঠন আর ভিটেমাটি হারানোর চিরস্থায়ী দীর্ঘশ্বাস বাংলা উপন্যাসে চিরকালের মতো মুদ্রিত হয়েছে।
"দেশভাগ মানুষের ভূগোল বদলেছে ঠিকই, কিন্তু স্মৃতির নদীকে শুকিয়ে দিতে পারেনি।"
হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্পে অথবা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’ উপন্যাসে দেশভাগের গভীর ক্ষত ও উদ্বাস্তু জীবনের লড়াই সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। ওপার থেকে আসা মানুষের এপারে নতুন করে জীবনযুদ্ধ শুরু করার বাস্তব চিত্র বাঙালির ইতিহাসের এক করুণ দলিল।
একই সাথে এই সাহিত্যে ফুটে উঠেছে মানবতার জয়গান। দাঙ্গার অন্ধকারের মধ্যেও পরম স্নেহে প্রতিবেশীকে বাঁচানোর ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে সীমানা মানুষ ভাগ করতে পারলেও মানবিকতার সম্পর্ককে ছিন্ন করতে পারেনি। দেশভাগের সাহিত্য তাই একাধারে অশ্রু এবং আশাবাদের স্মৃতিকথা।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!